কুয়াকাটা উপকূলে জ্বালানি তেলের ভয়াবহ সংকটে সাগরে মাছ শিকার বন্ধ | আপন নিউজ

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
কুয়াকাটায় মা’দ’কবি’রোধী অভিযানে শ্রমিকদল নেতাসহ আ’ট’ক-২ কলাপাড়ায় ৫০০ গ্রাম গাঁ’জাসহ মা’দ’ক কারবারি আ’ট’ক ধানখালী ডিগ্রি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বি’রু’দ্ধে সংবাদ সম্মেলন কলাপাড়ায় ই’ভ’টি’জিংয়ে’র প্র’তি’বা’দে মি’ছি’ল ও মা’ন’ব’ব’ন্ধ’ন কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃ’ত্যু কলাপাড়ায় ফেসবুকে আ’প’ত্তিক’র ছবি ছড়ানোর পর এসএসসি পরীক্ষার্থীর আ/ত্ম/হ/ত্যা মহিপুরে ১২ কেজি গাঁ’জাসহ ৪ কারবারিকে আ’ট’ক করেছে পুলিশ কলাপাড়ায় জেলেদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ২৭ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ, ফিরেছে স্বস্তি কলাপাড়ায় জ্ঞানার্থী ব্লাড ফাউন্ডেশনের নতুন কমিটি গঠন আন্ধারমানিক সেতুর ফুটপাত ভাঙা, ২ বছরেও মেরামত নেই-ঝুঁকিতে পথচারী
কুয়াকাটা উপকূলে জ্বালানি তেলের ভয়াবহ সংকটে সাগরে মাছ শিকার বন্ধ

কুয়াকাটা উপকূলে জ্বালানি তেলের ভয়াবহ সংকটে সাগরে মাছ শিকার বন্ধ

মেজবাহউদ্দিন মাননুঃ ঈদের লম্বা ছুটির পরে সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ফিশিং ট্রলার (এফবি মা-বাবার দোয়া) মালিক ইউসুফ ফকির। প্রয়োজনীয় বরফসহ ১৬ জন জেলের বাজারঘাট নিয়ে অন্তত ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সংকটে আর সাগরে যাওয়া হয়নি। পাঁচ-ছয়দিন মহিপুর ঘাটে বসেই বাজার-সওদা শেষ করেছেন। কবে নাগাদ তেলের যোগান পাবেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ইউসুফ ফকির। জানালেন শতকরা ৮০ ভাগ ট্রলারের সাগওে মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে। মহিপুর আলীপুর মৎস্য বন্দরের অধিকাংশ ট্রলার ঘাটে ভিড়ে আছে। কবে নাগাদ জ্বালানি তেলের সংকট কাটবে তা এক মহা অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। কোথাও তেল পাওয়ার কোন সুখবর মিলছে না। অন্তত ২০ হাজার জেলে বেকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

বললেন ইউসুফ ফকির, ‘বেতন, দাদন দেওয়া লোকজনকে। মুদি থেকে শুরু করে বাকি ধার-দেনার শেষ নাই। সামনে পাওনাদারদের চৈত্রের হিসাব-নিকাশ মেটানোর তাগাদা। জেলেদের কষ্টের শেষ নাই। বলার কথা নয় যে এতো সমস্যা। বহু জেলে এখন ট্রলার ছেড়ে কামলা-বদলা দেয়।’ জানালেন, একেকটি ট্রলারে ৮০০ থেকে কারও ছয়-সাত হাজার লিটার জ্বালানি তেলের দরকার হয়। স্থানীয় পাম্পে তো পরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে দেওয়া হচ্ছে। তাও চাহিদা মেটাতে পারছে না। যেন মহাবিপদের মধ্যে পড়েছেন এই পেশার সকল ট্রলার মালিক, জেলে, আড়তমালিকসহ পেশা সংশ্লিষ্টরা। এভাবে মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরের খাপড়াভাঙ্গা নদীতে তিন শতাধিক ছোট-বড় ফিশিং বোট সপ্তাহকাল ধরে ভিড়ে আছে। স্থানীয় পাম্প ছাড়াও মহিপুর-আলীপুর বন্দরের ডিজেল-পেট্রোল বিক্রেতাদের আট-নয় ব্যবসায়ীর দোকানও বন্ধ হয়ে গেছে। যেন জ্বালানি তেলের হাহাকার চলছে। বন্দরটিতে নেই প্রাণচাঞ্চল্য নেই। কারণ একেতো ঈদের পরে এখন পর্যন্ত অধিকাংশ ট্রলার মালিক কিংবা একটি ট্রিপও সাগওে মাছ শিকাওে যেতে পারেননি। কবে নাগাদ তেল পাবেন তাও অনিশ্চিত। তারউপওে আগামি ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এসব কারণে জেলেসহ এই পেশার মানুষ অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, এখানে দৈনিক ৩০-৩২ হাজার লিটার পেট্রোল ও ৫৫-৬০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর এক দশমাংশ সরবরাহ নেই। ফলে জেলে পেশায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অন্তত চার হাজার জেলে পরিবার শুধুমাত্র মহিপুরেই বেকার বসে দিন কাটাচ্ছে। শুধুমাত্র পাথরঘাটা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন ঘাট থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া কিছু ট্রলার কিছু পরিমাণ মাছ নিয়ে এখানে ফিরছে। এছাড়া স্থানীয় সকল ট্রলার ঘাটে বাঁধা রয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকট সহসা কাটবে এমন আশার কথাও কেউ শোনাতে পারছেন না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। যে পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে তা সঠিকভাবে বিতরণের জন্য তারা সর্বাত্মক সচেষ্ট রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কলাপাড়া উপজেলায় মোট চারটি ফিলিং স্টেশনে (পাম্পে) ২৭৭৪ লিটার অকটেন, ৯৯৭৭ লিটার পেট্রোল ও ১৬১৫২ লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসনসূত্র নিশ্চিত করেছে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!